রাতে গভীর ঘুমে হঠাৎ হাতের তালু বা আঙুল ঝিনঝিন (Tingling) করে ওঠা, অবশ হয়ে যাওয়া, কিংবা মনে হওয়া যে হাতে কোনো শক্তি নেই—এই সমস্যাটি আমাদের অনেকেরই হয়। অনেকে এটাকে সাধারণ "রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া" ভেবে ভুল করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম কার্পাল টানেল সিনড্রোম বা CTS।
আমি ডাঃ রিয়াজ মাহমুদ, একজন অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন হিসেবে আজ সহজ ভাষায় এই সমস্যাটি এবং এর সমাধান নিয়ে আলোচনা করব।
সহজভাবে বললে, এই মিডিয়ান নার্ভটি আপনার হাতের অনুভূতি বহন করে এবং মাংসপেশিকে নড়াচড়ার জন্য সিগন্যাল প্রদান করে। কোনো কারণে যদি এই সরু টানেলে চাপ পড়ে, তবে রগটি সংকুচিত হয়ে যায়। ঠিক যেমন পানির পাইপের ওপর পা দিয়ে দাঁড়ালে পানি বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি রগে চাপ পড়লে হাত ঝিনঝিন বা অবশ হতে শুরু করে।

২. সঠিক পজিশন: ঘুমানোর সময় হাতের ওপর মাথা দিয়ে শোবেন না।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিস থাকলে CTS হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. ঘরোয়া সেঁক: কবজিতে হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিয়ে দেখতে পারেন যদি সাময়িক আরাম পান।
অবহেলা করবেন না
দীর্ঘদিন হাতের এই ঝিনঝিন ভাব অবহেলা করলে হাতের মাংসপেশি স্থায়ীভাবে শুকিয়ে যেতে পারে, যাকে আমরা Muscle Atrophy বলি। তখন অপারেশন করলেও পূর্ণ শক্তি ফিরে পাওয়া কঠিন হয়।
আপনার যদি এই সমস্যাগুলো থেকে থাকে, তবে আজই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
পরামর্শ বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ভিজিট করুন: reazmahmud.com
অথবা আমার চেম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। সুস্থ থাকুন, সচল থাকুন।
আপনার কি এই সমস্যাগুলো হচ্ছে?
CTS হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
- রাতে হাত ঝিনঝিন করা: ঘুমের মধ্যে বুড়ো আঙুল, তর্জনী এবং মধ্যমা ঝিনঝিন করে এবং হাত নাড়ালে কিছুটা আরাম লাগে।
- হাতের তালু অবশ ভাব: অনেক সময় মনে হয় হাত অবশ হয়ে আছে এবং বোধ পাওয়া যায় না।
- জ্বালাপোড়া বা 'কারেন্ট শক' অনুভূতি: হাতের কবজি থেকে আঙুল পর্যন্ত কারেন্ট শকের মতো অনুভূতি হতে পারে।
- জিনিসপত্র হাত থেকে পড়ে যাওয়া: হাতের গ্রিপ বা শক্তি কমে যাওয়ার কারণে কাপ বা মোবাইল ধরে রাখতে কষ্ট হওয়া।
কেন এমন হয়?
আমাদের কবজির ভেতর দিয়ে একটি সরু রাস্তা বা টানেল আছে, যাকে বলা হয় কার্পাল টানেল। এই টানেলের ভেতর দিয়ে 'মিডিয়ান নার্ভ' (Median Nerve) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা রগ যাতায়াত করে।সহজভাবে বললে, এই মিডিয়ান নার্ভটি আপনার হাতের অনুভূতি বহন করে এবং মাংসপেশিকে নড়াচড়ার জন্য সিগন্যাল প্রদান করে। কোনো কারণে যদি এই সরু টানেলে চাপ পড়ে, তবে রগটি সংকুচিত হয়ে যায়। ঠিক যেমন পানির পাইপের ওপর পা দিয়ে দাঁড়ালে পানি বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি রগে চাপ পড়লে হাত ঝিনঝিন বা অবশ হতে শুরু করে।
চিকিৎসা:
আমরা সাধারণত দুইভাবে এর চিকিৎসা করি:১. বিনা অপারেশনে চিকিৎসা (Conservative Treatment)
যদি সমস্যা শুরুতে ধরা পড়ে, তবে নিচের পদ্ধতিগুলো কার্যকর:- রিস্ট স্প্লিন্ট (Wrist Splint): রাতে ঘুমানোর সময় কবজি সোজা রাখার জন্য একটি বিশেষ সাপোর্ট ব্যবহার করা।
- ওষুধ: ব্যথানাশক (প্রয়োজন হলে) এবং স্নায়ুর রিপেয়ারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন বা ওষুধ।
- ব্যায়াম: ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে নার্ভ গ্লাইডিং এক্সারসাইজ।
- ইনজেকশন: বিশেষ ক্ষেত্রে কার্পাল টানেলে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়।
২. অপারেশন (Carpal Tunnel Release)
যদি রগে চাপ খুব বেশি থাকে এবং হাত শুকিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে একটি ছোট অস্ত্রোপচার বা 'ডিকম্প্রেশন' করতে হয়।- এটি একটি ডে-কেয়ার প্রসিডিউর (সকালেই এসে বিকেলেই বাসায় যাওয়া যায়)।
- CTS Release এর মাধ্যমে সেই সরু টানেলের ওপরের পর্দাটি কেটে নার্ভটিকে ফ্রি করে দেওয়া হয়। এতে রগটি আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
কিছু জরুরি পরামর্শ (প্রতিরোধ)
১. কবজির বিশ্রাম: একটানা কিবোর্ড টাইপিং, মোবাইল চালানো বা ভারী কাজ করবেন না। প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর পর হাত স্ট্রেচ করুন।২. সঠিক পজিশন: ঘুমানোর সময় হাতের ওপর মাথা দিয়ে শোবেন না।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিস থাকলে CTS হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. ঘরোয়া সেঁক: কবজিতে হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিয়ে দেখতে পারেন যদি সাময়িক আরাম পান।
অবহেলা করবেন না
দীর্ঘদিন হাতের এই ঝিনঝিন ভাব অবহেলা করলে হাতের মাংসপেশি স্থায়ীভাবে শুকিয়ে যেতে পারে, যাকে আমরা Muscle Atrophy বলি। তখন অপারেশন করলেও পূর্ণ শক্তি ফিরে পাওয়া কঠিন হয়।
আপনার যদি এই সমস্যাগুলো থেকে থাকে, তবে আজই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
পরামর্শ বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ভিজিট করুন: reazmahmud.com
অথবা আমার চেম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। সুস্থ থাকুন, সচল থাকুন।

Comments
Post a Comment