মোবাইল স্ক্রল করতে গেলে কি বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় তীব্র ব্যথা লাগে? অথবা বাচ্চার ডায়াপার বদলানোর সময় বা কড়াই ধরতে গেলে কি কব্জিতে টান লাগে? যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে আপনি একা নন। এই সমস্যাকে মেডিকেলের ভাষায়— ডি-কোয়ারভাইনস (De Quervain's Tenosynovitis) বলা হয়।
ডি-কোয়ারভাইনস এর প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
অনেকেই একে সাধারণ চোট বা বাতের ব্যথা ভেবে ভুল করেন। নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন তো:- বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় ব্যথা: বৃদ্ধাঙ্গুলের ঠিক নিচের দিকে কব্জিতে ব্যথা হওয়া।
- ফোলা ভাব: ব্যথার জায়গায় কিছুটা ফুলে যেতে পারে।
- মুঠো করতে কষ্ট: কোনো কিছু শক্ত করে ধরা বা কব্জি ঘোরাতে গেলে তীব্র টান লাগা।
- 'ক্যাচ' করে ধরা: বৃদ্ধাঙ্গুল নাড়াচাড়া করার সময় মনে হতে পারে রগ কোথাও আটকে যাচ্ছে।
কেন এই ব্যথা হয়?
আমাদের কব্জিতে হাড়ের ওপর দিয়ে কিছু রগ বা টেন্ডন গেছে, যা বৃদ্ধাঙ্গুল নাড়াতে সাহায্য করে। এই রগগুলো একটি টানেল বা সুড়ঙ্গের মতো আবরণের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে।যখন আমরা হাতের অতিরিক্ত ব্যবহার করি (যেমন: সারাদিন মোবাইল অপারেট করা, ভারী কিছু তোলা বা বারবার একই কাজ করা), তখন এই টানেলের ভেতর ঘর্ষণ বেড়ে যায় এবং রগগুলো ফুলে যায়। ফলে রগগুলো আর আগের মতো সহজে চলাচল করতে পারে না—এটাই মূলত ডি-কোয়ারভাইনস। এটি হাড়ের নয়, বরং রগ বা টেন্ডনের আবরণীর প্রদাহ।
চিকিৎসা পদ্ধতি
সুসংবাদ হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। নিচে একটি তুলনামূলক ধারণা দেওয়া হলো:১. অপারেশন বিহীন চিকিৎসা (প্রাথমিক ধাপ)
বিশ্রাম: যে কাজে ব্যথা বাড়ে, সেটি কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা।থাম্ব স্প্লিন্ট (Thumb Splint): বৃদ্ধাঙ্গুলকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্রেস ব্যবহার করা।
ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম: কব্জির নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু এক্সারসাইজ।
ইনজেকশন: যদি ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না হয়, তবে আক্রান্ত স্থানে সরাসরি একটি ইনজেকশন দিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
আপনার যদি এই ধরনের সমস্যা থাকে বা অন্য কোনো অর্থোপেডিক পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে আজই যোগাযোগ করতে পারেন।
👉 বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: reazmahmud.com
👉 পরামর্শ বা সিরিয়ালের জন্য সরাসরি মেসেজ দিন 01898-201466 নাম্বারে অথবা চেম্বারে যোগাযোগ করুন।
ইনজেকশন: যদি ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না হয়, তবে আক্রান্ত স্থানে সরাসরি একটি ইনজেকশন দিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
২. সার্জারি কখন লাগে?
যদি ওষুধ বা ইনজেকশনে কাজ না হয় এবং ব্যথা আপনার দৈনন্দিন কাজকে অসম্ভব করে তোলে, তখন একটি ছোট সার্জারি প্রয়োজন হয়। আমি এই সার্জারিটি খুব অল্প সময়ে সম্পন্ন করি, যেখানে রগের সেই টাইট হয়ে যাওয়া 'টানেল' বা আবরণটি আলগা করে দেওয়া হয়। একে De Quervain's Release বলা হয়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।প্রতিরোধ ও জরুরি পরামর্শ
ব্যথা হওয়ার আগেই সাবধান হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ:- মোবাইল ব্যবহারে বিরতি নিন: একনাগাড়ে অনেকক্ষণ এক হাতে মোবাইল স্ক্রল করবেন না।
- সঠিকভাবে ভার বহন: ভারী ব্যাগ বা পানির বালতি তোলার সময় কব্জির পজিশন ঠিক রাখুন।
- ব্যায়াম: কাজ শুরুর আগে কব্জি এবং আঙ্গুল হালকা স্ট্রেচিং করে নিন।
ব্যথা নিয়ে আর কতদিন কষ্ট করবেন?
কব্জির ব্যথা অবহেলা করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং হাতের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শই আপনাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে।আপনার যদি এই ধরনের সমস্যা থাকে বা অন্য কোনো অর্থোপেডিক পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে আজই যোগাযোগ করতে পারেন।
👉 বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: reazmahmud.com
👉 পরামর্শ বা সিরিয়ালের জন্য সরাসরি মেসেজ দিন 01898-201466 নাম্বারে অথবা চেম্বারে যোগাযোগ করুন।
ভালো থাকুন, সচল থাকুন। আপনার সুস্থতাই আমার কাম্য।
ডা. রিয়াজ মাহমুদ
অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন
স্পেশালিস্ট: ফ্র্যাকচার সার্জারি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট এবং হ্যান্ড সার্জারি।
স্পেশালিস্ট: ফ্র্যাকচার সার্জারি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট এবং হ্যান্ড সার্জারি।

Comments
Post a Comment