ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ জমে যাওয়া মধ্য বয়েসি রোগীদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায়। হাত উঁচু করতে ব্যথা অনুভব হওয়া এবং কাঁধের উপর হাত তুলতে না পারা এর অন্যতম লক্ষণ। ডায়বেটিস, আঘাতজনিত কারণে হয়ে থাকে কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের সমস্যা এর আড়ালে থাকতে পারে।
লক্ষণ ও পর্যায়সমূহ
এই অবস্থাটি সাধারণত তিনটি ধাপে অগ্রসর হয়:জমাট বাঁধার পর্যায় (Freezing Stage):
- কাঁধের ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
- কাঁধের নড়াচড়ার ক্ষমতা কমতে শুরু করে।
- রাতে ব্যথার কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
হিমশীতল পর্যায় (Frozen Stage):
- ব্যথা সামান্য কমতে পারে, কিন্তু কাঁধ অত্যন্ত শক্ত হয়ে যায়।
- দৈনন্দিন কাজ (যেমন চুল আঁচড়ানো, জামা পরা) করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- কাঁধের গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত থাকে।
গলার পর্যায় (Thawing Stage):
- এই ধাপে কাঁধের গতিশীলতা ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে।
- সম্পূর্ণ আরোগ্য হতে ১ থেকে ৩ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
সম্ভাব্য কারণসমূহ
ফ্রোজেন শোল্ডারের সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা নেই, তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়ায়:- অচলতা (Immobility): আঘাত, স্ট্রোক বা অস্ত্রোপচারের পরে দীর্ঘ দিন ধরে কাঁধ নাড়ানো বন্ধ থাকলে।
- ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এটি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
- বয়স ও লিঙ্গ: সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
- অন্যান্য রোগ: থাইরয়েড সমস্যা, যক্ষ্মা, বা হৃদরোগের মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থা।
চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন
সঠিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায়:- ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন NSAIDs) সেবন করা। তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশনের প্রয়োজন হতে পারে।
- ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy): এটিই ফ্রোজেন শোল্ডারের প্রধান চিকিৎসা। একজন ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনায় নিয়মিত স্ট্রেচিং ও গতিশীলতা বৃদ্ধির ব্যায়াম করা অত্যাবশ্যক।
- উদাহরণ ব্যায়াম: পেন্ডুলাম এক্সারসাইজ, ফিঙ্গার ওয়াকিং বা ওয়াল ক্লাইম্বিং, শোল্ডার রোটেশন।
- তাপ ও ঠাণ্ডা থেরাপি: ব্যথা ও শক্ত ভাব কমানোর জন্য গরম সেক (হিট প্যাক) বা বরফ সেক (আইস প্যাক) ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা: ফ্রোজেন শোল্ডার ভালো হতে সময় লাগে। আরোগ্যের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ধৈর্য ধরে এবং নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।