কোমর ব্যথা বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে সাধারণ অথচ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত সমস্যাগুলোর একটি। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে চলাফেরা, ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ আঘাত অথবা বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে। অনেকেই ব্যথানাশক খেয়ে বা ঘরোয়া চিকিৎসায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও মূল সমস্যাটি থেকে যায়।
কোমর ব্যথা শুধুমাত্র একটি উপসর্গ—এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করাই সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ।কোমর ব্যথার সাধারণ কারণসমূহ
নিম্ন পিঠের ব্যথার কারণগুলি প্রায়শই মেরুদণ্ডের গঠন এবং ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত:- পেশি এবং লিগামেন্টের টান: ভারী জিনিস ভুলভাবে তোলা বা হঠাৎ বাঁকানোর ফলে পেশি বা লিগামেন্টে টান লাগা।
- ভুল অঙ্গবিন্যাস (Poor Posture): দীর্ঘ সময় ধরে ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো।
- অতিরিক্ত ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ড এবং পিঠের পেশিগুলির উপর চাপ বাড়ায়।
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: দুর্বল পিঠ এবং পেটের পেশি (Core Muscles) মেরুদণ্ডকে সঠিক সাপোর্ট দিতে পারে না।
- হাড়ের সমস্যা: বয়সজনিত ক্ষয়, ডিস্ক প্রোল্যাপস (Disc Prolapse বা সায়াটিকা)/ স্লিপ ডিস্ক, বা আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা।
প্রধান লক্ষণসমূহ
ব্যথার স্থান: কোমরের ঠিক নিচে বা মাঝখানে ব্যথা। ব্যথা নিতম্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।ব্যথার ধরন: ভোঁতা ব্যথা (Aching), তীব্র তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp Pain) অথবা জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
নড়াচড়ার সাথে বৃদ্ধি: হাঁটা, বাঁকা হওয়া বা ভারী জিনিস তোলার সময় ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া।
শক্ত হয়ে যাওয়া: ঘুম থেকে ওঠার পর বা দীর্ঘ সময় বসার পর পিঠের অংশ শক্ত মনে হওয়া।
সায়াটিকা (Sciatica): যদি ব্যথা নিতম্ব বা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় এবং ঝিনঝিন বা অসাড়তা সৃষ্টি করে, তবে তা স্নায়ুর উপর চাপের লক্ষণ হতে পারে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন?
- "রেড ফ্ল্যাগ সাইন" উপসর্গ দেখা দিলে।
- কয়েক সপ্তাহের বেশি উপসর্গ থাকা।
- পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামে ব্যথার তীব্রতা উপশম না হওয়া।
- দাঁড়িয়ে থাকা/ হাঁটাচলার সাথে ব্যথা তীব্রতর হলে।
- ব্যথা কোমর থেকে উরু এবং পায়ের মাংসপেশীতে ছড়িয়ে পড়লে।
- পায়ের পাতা, আঙুল অবশ লাগা/ঝিনঝিন করা।
- আনুষঙ্গিক অন্যান্য উপসর্গ যেমন, জ্বর থাকা, শরীরের ওজন ক্রমাগত কমে যাওয়া, মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা
আজকাল অধিকাংশ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রেই অপারেশন প্রয়োজন হয় না। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—- সঠিক ওষুধ ব্যবস্থাপনা
- ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন এক্সারসাইজ
- লাইফস্টাইল ও কাজের ভঙ্গি সংশোধন
- প্রয়োজন অনুযায়ী ইনজেকশন থেরাপি
- খুব সীমিত ক্ষেত্রে সার্জারি