সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গেলে হাঁটুতে কটকট শব্দ হয়? কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্টগুলো কিছুক্ষণ জ্যাম বা শক্ত হয়ে থাকে? বাংলাদেশে ৪০-ঊর্ধ্বো নারী-পুরুষের মধ্যে এটি অত্যন্ত পরিচিত সমস্যা। অনেকেই একে ‘বাত’ বলে ভুল করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)।
সহজ কথায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী?
সহজ উদাহরণ দিয়ে বললে—একটি গাড়ির টায়ার যেমন দীর্ঘদিন চলার পর ক্ষয়ে যায়, আমাদের হাড়ের সংযোগস্থলেও ঠিক তাই ঘটে।
আমাদের জয়েন্ট বা হাড়ের জোড়ায় ‘কার্টিলেজ’ (Cartilage) নামে একটি নরম, পিচ্ছিল আস্তরণ থাকে। এটি কুশনের মতো কাজ করে।
বয়স বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই কার্টিলেজ শুকিয়ে যায় বা ফেটে যায়।
তখন হাড়ে-হাড়ে ঘর্ষণ লাগে এবং ব্যথার সৃষ্টি হয়। একেই আমরা চলতি বাংলায় ‘হাড়ের ক্ষয়’ বলি।
রোগীরা যা নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্ত হন
ব্যথা শুরু হলেই রোগীরা কিছু সাধারণ ভুল ধারণা পোষণ করেন, যা চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়:
“ক্যালসিয়াম খেলেই সেরে যাবে”: এটি সম্পূর্ণ ভুল। অস্টিওআর্থ্রাইটিস হাড়ের ‘যান্ত্রিক সমস্যা’ (Mechanical problem), এটি কেবল ক্যালসিয়ামের অভাব নয়।
ইউরিক অ্যাসিডের ভয়: হাঁটু ব্যথা মানেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া নয়। বাতের ব্যথা (Gout) আর হাড়ের ক্ষয় এক জিনিস নয়।
তেল মালিশ: ব্যথা কমাতে অনেকেই জোরে জোরে মালিশ করেন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত মালিশে প্রদাহ বা ব্যথা হিতের বিপরীত হতে পারে।
যে নিয়মগুলো সাধারণত নিরাপদ ও জরুরি
ঔষধের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:
ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ১ কেজি ওজন কমানো মানে হাঁটুর ওপর থেকে ৪ কেজি চাপ কমানো।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক: জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকলে হালকা গরম সেঁক, আর ফুলে গিয়ে গরম হয়ে থাকলে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক আরামদায়ক।
বসার নিয়ম: নিচে বসা, পিঁড়িতে বসা বা নামাজে হাঁটু ভাজ করা এড়িয়ে চলুন। হাই-কমোড এবং চেয়ার ব্যবহার করা হাড়ের সুরক্ষায় জরুরি।
পেশির শক্তি বৃদ্ধি: চিকিৎসকের নির্দেশ মতো উরুর মাংসপেশি (Quadriceps) শক্ত করার ব্যায়াম করা।
ভয়ের কিছু নেই, ভালো থাকা সম্ভব
‘হাড় ক্ষয়ে গেছে’ শুনলেই অনেকে ভাবেন তিনি বুঝি পঙ্গু হয়ে যাবেন। বিষয়টি একদমই তেমন নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বয়সের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, ফিজিওথেরাপি, জীবনধারা পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে আধুনিক চিকিৎসার (যেমন—জয়েন্ট ইনজেকশন বা রিপ্লেসমেন্ট) মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।
প্রয়োজনে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
![]() |
| Created in https://BioRender.com |

Comments
Post a Comment