ঘাড় ব্যথা বা Neck Pain বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ঘুমানো, মানসিক চাপ, হঠাৎ আঘাত কিংবা বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে। অনেকেই এই ব্যথাকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করেন, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
সাধারণ কারণসমূহ
- ঘাড় ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—
- দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার
- ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ঘুমানো
- সার্ভাইক্যাল স্পাইন (Cervical Spine) সমস্যা
- মাংসপেশী ও লিগামেন্টে টান
- দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়া
- বয়সজনিত স্পাইনাল ডিজেনারেশন
প্রধান লক্ষণসমূহ
ব্যথার স্থান: ঘাড় এবং কাঁধের সংযোগস্থলে বা ঘাড়ের এক পাশে তীব্র বা ভোঁতা ব্যথা।শক্ত হয়ে যাওয়া (Stiffness): ঘাড় ঘোরাতে বা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া।
মাথাব্যথা: ঘাড়ের পেছন দিক থেকে শুরু হয়ে মাথার দিকে ছড়িয়ে যাওয়া টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা।
বিকিরণশীল ব্যথা: কাঁধ বা বাহু পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়া (যদি কোনো স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে)।
ঝিনঝিন বা অসাড়তা: বাহু বা হাতে দুর্বলতা, ঝিনঝিন বা অসাড়তা অনুভব করা (যা নার্ভ কম্প্রেশনের লক্ষণ হতে পারে)।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন?
- কয়েক সপ্তাহের বেশি উপসর্গ থাকা।
- পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামে ব্যথার তীব্রতা উপশম না হওয়া।
- বাহু বা হাতে ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা বা অসাড়তা।
- জ্বর এবং ঘাড়ের তীব্র অনমনীয়তা (যা মেনিনজাইটিসের লক্ষণ হতে পারে)।
- কোনো আঘাতের পরে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া।
চিকিৎসা
বর্তমানে অধিকাংশ Neck Pain-এর ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—- প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ চিকিৎসা
- ফিজিওথেরাপি ও সার্ভাইক্যাল এক্সারসাইজ
- বসা, ঘুমানো ও কাজের ভঙ্গি সংশোধন
- লাইফস্টাইল পরিবর্তন
- জটিল ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসা