ব্যস্ত জীবনে আমাদের প্রতিদিন অনেকবার সিঁড়ি ভাঙতে হয়। কিন্তু যদি এমন হয় যে, সিঁড়িতে পা দিলেই হাঁটুতে তীব্র ব্যথা বা শিরশিরে অনুভূতি হচ্ছে অথবা অনেক সময় নিচ থেকে ওপরে ওঠার চেয়ে নামার সময় ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। একজন হাড় ও জোড়া রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিদিন এমন অনেক রোগী পাই যারা এই সমস্যায় ভুগছেন।
হাঁটু ব্যথার প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
সিঁড়ি ব্যবহারের সময় আপনি যদি নিচের সমস্যাগুলো অনুভব করেন, তবে বুঝে নেবেন আপনার হাঁটুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন:- সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হাঁটুর সামনের দিকে তীব্র ব্যথা।
- হাঁটু ভাঁজ করলে মটমট শব্দ হওয়া।
- দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে হাঁটু জ্যাম হয়ে থাকা।
- হাঁটুর চারপাশে হালকা ফোলা ভাব বা গরম অনুভূত হওয়া।
- হাঁটুতে পর্যাপ্ত শক্তি না পাওয়া বা মনে হওয়া যে হাঁটু 'ছেড়ে দিচ্ছে'।
কেন এমন হয়?
আমাদের হাঁটুর বাটির নিচে একটি নরম হাড় বা তরুণাস্থি (Cartilage) থাকে। এটি কুশনের মতো কাজ করে। যখন এই কুশনটি ক্ষয় হতে শুরু করে বা ঘষা খায়, তখনই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় কষ্ট হয়।মেডিকেল ভাষায় একে আমরা অনেক সময় 'প্যাটেলোফিমোরাল পেইন সিনড্রোম' বা 'অস্টিওআর্থ্রাইটিস' বলি। যদি আপনার মেরুদণ্ডে সমস্যা থাকে (যেমন PLID বা ডিস্ক প্রলাপ্স), তবে সেই ব্যথার টানও অনেক সময় পায়ে নামতে পারে। আবার অনেকের পুরোনো ইনজুরি থাকলে হাঁটুতে স্ক্রু বা রড লাগানো থাকে (Fixation), সেক্ষেত্রেও সঠিক রিহ্যাবিলিটেশন না হলে সিঁড়িতে উঠতে নামতে ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা: অপারেশন কি খুব জরুরি?
অনেকেই অপারেশন শব্দটা শুনলে ভয় পান। তবে জেনে রাখুন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুরুর দিকে অপারেশন ছাড়াই সুস্থ হওয়া সম্ভব।বিনা অপারেশনে/Conservative চিকিৎসা (Non-surgical)
কখন প্রয়োজন? - ব্যথার প্রাথমিক পর্যায় বা হালকা ক্ষয়পদ্ধতি - ফিজিওথেরাপি, সঠিক ব্যায়াম, এবং ওজন কমানো।
সময়কাল - দীর্ঘমেয়াদী নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
অপারেশন (Surgical)
কখন প্রয়োজন? - যখন হাড় মারাত্মক ক্ষয়ে যায় বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।
পদ্ধতি - আর্থ্রোকোপিক সার্জারি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট।
সময়কাল - দ্রুত রিকভারি কিন্তু পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
পদ্ধতি - আর্থ্রোকোপিক সার্জারি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট।
সময়কাল - দ্রুত রিকভারি কিন্তু পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
ঘরোয়া সমাধান ও প্রতিরোধের টিপস
সিঁড়ির ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন:- ওজন নিয়ন্ত্রণ: আপনার শরীরের বাড়তি ১ কেজি ওজন হাঁটুর ওপর প্রায় ৪ কেজি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই ওজন কমানো সবচেয়ে বড় ওষুধ।
- সঠিক সিঁড়ি ব্যবহার: সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় 'ভালো পা' আগে দিন, আর নামার সময় 'ব্যথাযুক্ত পা' আগে দিন। এতে হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে।
- আইস প্যাক: কাজ শেষে হাঁটুতে ১০-১৫ মিনিট বরফ সেঁক দেয়া যেতে পারে।
- কোয়াড্রিসেপস ব্যায়াম: সোজা হয়ে শুয়ে হাঁটুর নিচে তোয়ালে দিয়ে চাপ দেওয়ার ব্যায়ামটি করুন। এটি হাঁটুর পেশিকে শক্তিশালী করে।
- নিচু আসবাব ত্যাগ: পিঁড়ি বা নিচু মোড়ায় বসে কাজ করা একদম বন্ধ করুন। হাই কমোড ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
পরামর্শ প্রয়োজন?
হাঁটু ব্যথা নিয়ে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শই আপনাকে সচল রাখতে পারে।আপনার যদি হাড়ের কোনো সমস্যা বা পুরোনো চোটের কারণে সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়, তবে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন আমার ওয়েবসাইট: reazmahmud.com।
এছাড়া সিরিয়ালের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বা আমার চেম্বারে এসে পরামর্শ নিতে পারেন। সুস্থ থাকুন, সচল থাকুন।

Comments
Post a Comment